বাঙালির শখ: ঘুড়ি ঘুড়ি (দুই ও অন্তিম)

মাছ ধরাটা, এক্সক্লুসিভ় না হলেও, বাঙালির নিজস্ব শখ৷ বাকি যে কটা শখের কথা প্রথম পর্বে বলেছি, সবই আলু-পেঁয়াজ-পেঁপে-লঙ্কার মত আমাদের পাতে বহিরাগত, তা সে যে যাই বলুক। মহাভারতে পাশা খেলা একটা বিশাল জায়গা জুড়ে বিদ্যমান; পাশার জুয়া এবং তার নেশা না থাকলে মহাকাব্যটাই লেখা হত না৷ কিন্তু রামায়ণ, মহাভারত, বাকি সব পুরাণ ও প্রাক-ইসলামীয় সাহিত্যে লাট্টু বা গুলির উল্লেখ পেয়েছেন কেউ? এমন কি, বাঙালির একান্ত নিজস্ব মঙ্গলকাব্যের শতেক ব্যাখ্যানে? কীর্তন বা পদাবলীর কৃষ্ণ মাঞ্জা দিতেন নিশ্চয়ই, রাধা কিংবা গোপিনীদের খাতিরে হয়তো, কিন্তু ঘুড়ি ওড়াতেন কি? হাতলেত্তি করে পরকীয়া প্রেমিকাদের ইমপ্রেস করার চেষ্টা করেছেন কখনও?

অনেক কারিগরী বিস্ময়ের সঙ্গে ঘুড়িও চিনের আবিস্কার, শুনেছি মোটামুটি ভারতের নাস্তিক মহাশ্রমণদের (বুদ্ধ, মহাবীর, আজীবিক, চার্বাক) যুগে৷ তখনকার ঘুড়ি এবং ঘুড়ি ওড়ানোর লক, দুইই ছিল চীনাংশুকের তৈরি৷ কাগজ এবং কাগজের ঘুড়িও তাদেরই কীর্তি — আরও হাজার বছর পার করে৷ সেখান থেকে ভারতে পৌঁছতে কতদিন লেগেছিল? হয়ত মধ্য এশিয়ার মানুষজন মারফত৷ হয়ত সহস্রবুদ্ধের গুম্ফায় তখন মরুশ্রমণরা হাজার হাজার পাতা পুথি লিখছেন সদ্ধর্মের জন্য৷ হয়ত কাশগর পেরিয়ে, তাকলা মাকান উজিয়ে, বিখ্যাত চীনাংশুকের বাণিজ্যিক পথে … যে পথ দিয়ে সদ্ধর্ম ওদেশে পৌঁছেছিল … যে রাস্তায় প্রাচীন চিনা পরিব্রাজকরা এদেশে এসে প্রামাণ্য ইতিহাস লিখে গেছেন। হয়ত তার আরেকটা হাওয়া, হয়ত অনেকগুলো হাওয়া, বারেবারে আছড়ে পড়েছে খাইবার গিরিপথ দিয়ে ঢুকে আসা লুটেরাদের মারফত, মোঙ্গল (মুঘল) দস্যু এবং ভাগ্যান্বেষী ঔপনিবেশিকদের হাত ঘুরে৷ তাই প্রাক-ইসলামীয় ভারতীয় সাহিত্যে ঘুড়ির উল্লেখ নেই৷ হিন্দুস্থানিতে যাকে পতং (<পতঙ্গ) বলা হয়, এবং একাধিক হিন্দু ধর্মানুষ্ঠানের সঙ্গে যার উড়ানযোগ, তারা সবাই নিতান্ত অর্বাচীন, ইসলামীয় অনুপ্রবেশের পরেকার অভ্যাস৷

হিন্দিভাষী দুনিয়ায় মকর সংক্রান্তির দিন স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে প্যাঁচ কষার দিন, সেই প্যাঁচ পার্লিয়ামেন্ট চত্বরে ও তার বাইরেও দিনরাত চলছে; এ বলে আমার গোঁপ বেশি লম্বা, ও বলে আমার৷ আমাদের ক্ষেত্রে বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটার কপালে সেই অধর্মীয় সৌভাগ্য। অথচ, বিশ্বকর্মা আর কার্তিকেয়ের পুজো হিন্দু সিদ্ধান্তের চান্দ্রতিথির নিয়মে হয়না: কাত্তিক পুজো হয় কার্ত্তিক সংক্রান্তির দিন, যদিও কাত্তিক ঠাকুরের সঙ্গে কার্ত্তিক মাসের সম্পর্ক নেই কোনও (পুজোর শুরুয়াত নাকি বাঁশবেড়ের সেনা ছাউনিতে, পোষা গণিকাদের অকুন্ঠ সাহায্যে)। বিশ্বকর্মা পুজো হয় ইংরেজি পঞ্জিকা মতে সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখে। শুনেছি, অহিফেন ব্যবসায়ী কার, টেগোর এন্ড কোম্পানির (যার অংশীদার ছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ) মদতে এই অশাস্ত্রীয় পুজো শুরু হয়, দক্ষিণের আয়ুধ পূজার আদলে। বিশ্বকর্মার সঙ্গে ঘুড়ির যোগাযোগ কি করে স্থাপিত হল সে কথা কেউ খোলসা করে বলেন নি৷

যাকগে সেসব ইতিহাসের তর্কসাপেক্ষ কচকচি।

আমার ঘুড়ি ওড়ানোর গুরু খোকাদা, কল্যাণকুমার সেন,  কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার। সাক্ষাৎ গুরু বললে সত্যের অপলাপ হবে, তবে তাদের ভবানীপুর পদ্মপুকুরের বাড়ির ছাদে পরপর দু দিন তার প্যাঁচপয়জারের হাতযশ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমারও ওস্তাদির শখ হয়৷ সে ব্যাপারে খোকাদা সাহায্য করেছিল বিস্তর৷

তখন লাটাই হত তিনরকম৷

প্রথমটা নিতান্তই কিন্ডারগার্টেন: একটা সাড়েতিনশো-চারশো মিলিমিটর লম্বা পাঁচ-ছ মিলিমিটর ব্যাসের লাঠির দুদিকে দুটো একশো মিলিমিটর ব্যাসের কাঠের চাকা গুঁজি দিয়ে এমনভাবে আটকানো যাতে তাদের দু পাশেই অন্তত পঁচাত্তর মিলিমিটর করে ধারণদণ্ড বেরিয় থাকে৷ চাকা দুটোর কিনার ধরে অনেকগুলো ঘন ঘন ছিদ্র — তাতে পাতলা আর সরু করে কাটা কঞ্চি এপার ওপার সাঁটানো — তাতে পঁচাত্তর মিলিমিটর মত ব্যাসের একটা সিলিন্ডার তৈরি হত, সেটাই সুতো জড়ানোর কাটিম৷ তাকে বলত কাঠের লাটাই, অথবা দেশি  লাটাই৷

দ্বিতীয়টা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের, দোকানে বলতে হত বাঁশের লাটাই, বা বোম্বাই  লাটাই৷ লাঠিটা আরো লম্বা আর মোটা৷ চাকতির বদলে একদিকে একটা বহির্ব্যাসে ছিদ্রময় কাঠের কলার পরানো, সেই ছিদ্রে অনেকগুলো তীক্ষ্ণমুখ বংশশলাকা বিঁধে, শিরিষের আঠায় জমিয়ে, সেগুলোকে প্যারাবোলার মত বেঁকিয়ে, মোটামুটি অক্ষদন্ডের সমান্তরাল দেড়শো মিলিমিটর ব্যাসের চারশো মিলিমিটর লম্বা একটা জিওডেসিক স্ট্রাকচার তৈরি করে আরেকটা কাঠের চাকায় কঞ্চিগুলো ফিক্স করে দেয়া হত৷

তিন নম্বরটা বোধহয় পেশাদারি, পুরোটাই কাঠের তৈরি, খালি কাটিমের জায়গাটা তিনটে সমদূরত্বের কাঠের বর্গাকার ফ্রেম বেঁধে তৈরি — সুতোটা ষড়কোণে গুটোতে হত৷ তাকে বলতো বিলিতি  লাটাই

কিন্ডারগার্টেন থেকে উচ্চমাধ্যমিকে উত্তরণ সহজেই হয়েছিল তবে ওই তিন নম্বরে কখনও পৌঁছতে পারিনি — বড্ড ভারি, বড্ড বড়, বড্ড দামি — আপসোস থেকে গেছে!

লাটাই দিয়ে শুরু করেছি যখন, এবার সুতোর প্রসঙ্গে আসা যাক, কারণ লাটাই গুটোলেই তো সুতো!

ঘুড়ি ওড়ানোর লক লম্বা আঁশের দামি তুলো থেকে পাকানো, খুব সরু কিন্তু হাই টেনসাইল (মোটা সুতো দিয়ে প্রতিপক্ষের সুতো কাটা দুষ্কর), ছিঁড়তে বিস্তর জোর লাগে। সেলাই করার রীল সুতো দিয়ে ঘুড়ি ওড়ায় বালখিল্যরা! বড়বাজারের সুতোপট্টি থেকে লকের গুটি ঘুড়ির দোকানিরা কিনে আনতেন। রেডিমেড লাল-নীল-হলদে-সবুজ মাঞ্জা দেয়া লকও কিনতে পাওয়া যেত, কিন্তু তাতে বীরত্ব কোথায়?

মাঞ্জার নানা ফ়র্মুলা সহ-উড়ুক্কুদের কাছে পাওয়া যেত, তবে সত্যি কথা কেউই বলত না বোধহয়। কোনও কোনও সদাশয় গুরুজন নানা উপদেশ দিতেন থেকে থেকে; হয় তার প্রাচীন উপাদান যোগাড় করে উঠতে পারতাম না, নয়তো এন্ড-রেসাল্ট আশানুরূপ হত না কখনও। বড়মেসো বলেছিলেন, ঘৃতকুমারীর টিপ দিয়ে মাঞ্জা বেদবাক্যের মত অমোঘ। বাড়িতেই বাবার শখের অ্যালো ভ়েরা গাছ ছিল; তার ফ়্যাটি অ্যালকোহল মাঝবয়েসি মহিলাদের চোখের দুপাশে বায়স-পদাঙ্ক অপনোদনের জন্য যতই ভালো হোক, মাঞ্জা দিতে গিয়ে আমি নাকের-জলে চোখের-জলে (চোখের জলটা বাবার প্রহারে)! ফুট পাঁচেক টানতে না টানতে ঘৃতকুমারীর রসস্থ পাতা সরু লকের ধারে কেটে গেল, আর রেসালটান্ট মাঞ্জাটা ওড়াতে না ওড়াতে টুকুর নিজস্ব ফ়র্মুলার মাঞ্জায় হার স্বীকার করে নিল বিনা যুদ্ধে! একই বিলডিঙে থাকতাম আমরা, তাও শালা কখনও ঘূণাক্ষরেও গোপন তথ্যটা ফাঁস করে নি।

তারপর থেকেই আমার গবেষণা ও উন্নয়নে মনোযোগ!

খুব মিহি কাচের গুঁড়ো সুতো কাটার উপযোগী নয়; চাই লম্বাটে গুঁড়ো, কাতানের ফলার মত। আমার অভিজ্ঞতায় বালবের চেয়ে রঙিন কাচ (যেমন বিয়ারের বোতল) ভালো, দামি বিদেশি ক্রিস্ট্যাল সবচেয়ে ভালো (পিঠের দাগ মিলোতে দুহপ্তা লেগেছিল তো)। যে ডিরেকশনে টিপ টানলেন, কাচের ক্ষুদ্র কাতানগুলো সেদিকেই তাদের শানিত ফলা মেলে ধরবে। ওড়াবার সময় ফলাগুলো ঘুড়িমুখী হলে সেটা ছাড়া মাঞ্জা, লাটাইমুখী হলে টানা  মাঞ্জা। আমরা অনেকেই ভাবতাম, মোটা করে মাঞ্জা দিলে, বা দু-তিন বার টিপ টানলে, ধার বাড়বে, কিন্তু, কার্যত, মাঞ্জার ভ়িসকসিটি ঠিক থাকলে আর ঠিকঠাক টিপ ধরতে জানলে এক-প্রলেপের মাঞ্জা সবচেয়ে ভালো।

অধিকন্তু বলে রাখি, ডিমের মাঞ্জার নামডাক থাকলেও রাবিশ; গঁদের বা বাবলার আঠাও কোনও কাজের না; ময়দার বা ভাতের ফ্যানের মাঞ্জা সবচেয়ে ভালো। আর, কোনও মাঞ্জাই দু-চারটে প্যাঁচের বেশি টেঁকে না, কাচের কাতান গুলো আঠার বাঁধুনি থেকে ঝরে যায় বলে৷

সুমন চাটুজ্জে, যিনি এখন কবীর সুমন, তাঁর নিজের বাঁধা গানে পেটকাটি-চাঁদিয়াল-মোমবাতি-বগ্গার কথা উচ্চকিতে বলেছেন। সে হলো পেখম তোলা ময়ুরের মত, লক্কা পায়রার মত, পমেন্যারিয়ান কুকুরের মত, পোশাকি ঘুড়ি; একাধিক কাগজ সেঁটে বানানো। তাতে ব্যালান্স নষ্ট হয়, মাঝে মাঝে পেটকাটির জোড় খুলে গিয়ে তার নাম সার্থক হয় খাটো ব্লাউজের মেয়েদের মত৷ প্যাঁচ খেলার বা প্রকৃত শোম্যানশিপের ঘুড়ি এক কাগজে তৈরি, কড়িকাটা কাগজ হলে আরো ভালো। সেন্ট জন’স স্কুলের দেবকিশোর উত্তম-সুচিত্রা (মাঝকাঠির দুদিকে দুজনের ছবি ছাপা, বালির মোড়ে সুবোধের দোকানে পাওয়া যেত; রাজকাপুর-নার্গিস ঘুড়িও ছিল, যার যা রুচি) ঘুড়ি নিয়ে প্যাঁচ খেলেছিল বলে আমার বাসি মাঞ্জাতেও তার ঘুড়ি কেটেছিলাম — এক বার নয়, দু-দু বার!

ঘুড়ির রাজা ছিল পল্টুদা, আমার বন্ধু নন্তুর সব চেয়ে বড় দাদা। ব্রাউন পেপারের একটা দু-ফুট ঢাউস স্বহস্তে বানিয়ে, বিলিতি লাটাইয়ে টন (টোয়াইন কে আমরা তাই বলতাম) সুতোয় উড়িয়েছিল, প্রায় মেঘের কাছাকাছি, এত উঁচু যে চর্মচক্ষে দেখাই যাচ্ছিল না, বাইনোকুলার দিয়ে দেখেছিলাম সকলে। একবার সামনের লনের শিরিষ গাছ আর রাস্তার ল্যাম্প পোস্টের মধ্যে লক খাটিয়ে নিজের ফ়র্মুলায় খাকি রঙের মাঞ্জা দিয়েছিল বিশ্বকর্মার আগের দিন, আর সে কি দুর্ধর্ষ মাঞ্জা!

তবে ঘুড়ির একরাট সম্রাট ছিল সোনাদা, আমাদের ক্লাসের চম্পার দাদা। ছেলে হিসেবে তার সুনাম ছিল না মোটেই: সে নাকি মেয়েদের বিরক্ত করত, অসভ্য অসভ্য চিঠি দিত৷ খামারপাড়ার পারুলদিকে একবার ঘুড়ির লেজে বাঁধা প্রেমপত্র গোঁত্তা খাইয়ে তাদের বারান্দায় পৌঁছে দিয়েছিল অব্যর্থ নিশানায়; শুনেছি, পারুলদি বিরক্ত হয়নি মোটেই, তবে তার বিয়ে হয়েছিল মেশিন শপের মদনের সঙ্গে। বাঁশবেড়ে ময়দান কিংবা শা’গঞ্জের লেডিজ ক্লাবের মাঠে তাকে কখনও হারতে দেখিনি।

যে ঘুড়ি হাওয়া ধরে না তার মাঝকাঠির বাঁশের দিকটা তেলা মাথায় ঘষে চেত্তা  ভাঙতে হত; অর্থাৎ, চেত্তা মানিনীর অভিমানের সমতুল, মাথায় তুলে রাখতে হয়৷ ক্রমাগত লাট  খায় যে ঘুড়ি (governor-eating kite), তার হালকা দিকটায় আন্দাজ মত কান্নিক  মারতে হয়; কান্নিক মানে ধনুককাঠির প্রত্যন্ত প্রান্তে ঘাস-পাতা বা ছেঁড়া কাগজ দিয়ে ওজন সওয়ানো। কল বাঁধারও নানান নিয়ম আছে: মাঝকাঠি আর ধনুককাঠির সংযোগে ওপরকল  বাঁধা হয়, বাঁশের দিকটা আকাশমুখ রেখে, নিচেরকল ল্যাজচৌকোর দু-তিন আঙুল ওপরে।  কল হবে সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ (আকাশে তুলে দুই বাহু অভিশাপ দিচ্ছেন কারে) আর ওপরকল নিচেরকলের মধ্যে যতটা দূরত্ব, তার চেয়ে তিন কি চার ইঞ্চি লম্বা হতে হবে তার সমান দুই বাহু। যেমন তেমন গিঁট চলবে না, চাই স্কাউটিঙে শেখা রীফ নট; তার বাড়তি লেজুড় কাঁচি দিয়ে ছেঁটে ফেলা একান্ত জরুরি।

সেসব অনভিধানিক টার্মিনোলজি কি আজও চলে? ছেলেরা কি শুকনো ঘাস (অভাবে পথের ধুলো) বাতাসে ভাসিয়ে ধরাই দেবার দিক নির্ণয় করে এখনও? ঘুড়ি তো আমার চেনা দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতার আকাশে উড়তে দেখিনা, উত্তর কলকাতায় কি আজও ওড়ে?

লাট্টু-গুলি-ঘুড়ি আজ মোয়া-রিয়া-এমুর মত বিরল, সুধীন্দ্রনাথের উটপাখির মত:

প্রাকপুরাণিক বাল্য বন্ধু যত

বিগত সবাই, তুমি অসহায়, একা!

কিন্তু, হায়, ঘুড়ির ধ্বংসাবশেষ, কান্নিক আর তাপ্পি দেয়া ছাড়া, কোনও কাজে লাগে না; তাই বলতে পারব না

ভূমিতে ছড়ালে অকারী পালকগুলি

শ্রমণ শোভন বীজন বানাবো তাতে,

উধাও তারার উড্ডীন  (ছেঁড়া ঘুড়ি তো তার মত উড্ডীন হবে না আর!) পদধূলি

পুঙ্খে পুঙ্খে বাজবে না অমা রাতে!

 Read  বাঙালির শখ:  ঘুড়ি ঘুড়ি (এক) at http://wp.me/p1SeUE-8A

Advertisements

9 thoughts on “বাঙালির শখ: ঘুড়ি ঘুড়ি (দুই ও অন্তিম)

  1. উত্তর কলকাতায় এখনো মোটামুটি ভালোই ঘুড়ি ওড়ে , আমাদের বড় ছাদ বলে বিশ্বকর্মা পুজার দিন বেশ কিছু ঘুড়ি কেটে পড়ে । আশেপাশের বাড়ীর ছোট ছোট বাচ্ছারা এসে মিনতি করে – ” দাদু দাওনা ঘুড়িটা ” – দিয়ে দি ।

  2. ঘুড়ির দিন শেষ। আমাদের উত্তর কলকাতার বাড়িতে বিশ্বকর্মা পূজোর দিনে অফিস না গিয়ে কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে বাবা-কাকা-দাদুদের একসাথে হল্লা বা হুলু সহযোগে ভোকাটা রব আর শোনা যায় না বা হয়ত ভাবাও যায় না। নেশার থুড়ি শখের চোটে আমি আমার হাওড়া জেলায় মাতুলালয়েও গেছি সরস্বতী পূজোর দিনে কারণ ওই অঞ্চলে সেদিন ঘুড়ি উড়ত।

  3. ভালো লাগলো। ঘুড়ির সঙ্গে আমার সম্পর্কটা খুব নিবিড় ছিলনা বটে, তবু কাটা ঘুড়ির পিছনে কয়েক কিলোমিটার দৌড়েছি।

  4. ঘুড়ি প্রচন্ড ওড়ে গুজরাটে , উত্তরায়ণ এর দিন । ছেলে , মেয়ে বুড়ো , বুড়ি কেউ ঘুড়ি ওড়াতে বাদ যায় না ।
    কলকাতা ময়দানেও অনেক সাবেকি লোকজন কে ঘুড়ি ওড়াতে দেখেছি । ঘুড়ি বইবার জন্য বিশেষ রকম অ্যাটাচি কেস ও তাদের কাছে থাকতো ।
    প্রয়াত অভিনেতা অসিতবরণ নাকি খুব ঘুড়ি-বাগীশ ছিলেন। তবে কলকাতায় এখন প্রতি বছর কাইট ফেস্টিভাল হয় , তাতে ঘুড়ি ‘র উপর আকর্ষণ নাকি পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে খবর.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s