কবিতার স্ক্র্যাপবুক ৪

জীর্ণ খাতাটার ১৬ সংখ্যক কবিতাটা পুর্ণেন্দুশেখর পত্রীর বিতর্কিত মাধবীর জন্যে, দেশ, ১০.০৯.১৯৬৬। শুরুতে…

আমার পাশে একটু অন্ধকার ছায়া এঁকে দাও.
ব্যথিত দৃশ্যের পট জুড়ে থাক চিত্রিত আঁধার।

শেষ দিকে আছে…

দৃষ্টি আরও নত হবে…
সম্মুখে কোথাও কোন দেখিবার মত দৃশ্য নাই.
সব দৃশ্য ঝরে গেছে বনবিথীতলে নীরব রোদনে
নিবন্ত ধূপের সাদা ছাই
রজনী-পোয়ানো কিছু মৃত গোলাপের দীর্ঘশ্বাস
হাঁ-করা নেকড়ের মুখে দগ্ধ সিগারেট
এইটুকু দৃশ্য শুধু পড়ে আছে কাঠের টেবিলে।
লাইটস বার্নিং।
মাধবী — মেক-আপ — আলো
এবার টেকিং।
মাধবী, নিশ্চয়ই মনে আছে সংক্ষিপ্ত সংলাপটুকু,
“কিছু লাভ আছে মনে রেখে?”

মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

খাতার ২২ নম্বরে বুদ্ধদেব বসুর বিখ্যাত কবিতা আরোগ্যের তারিখ, আবার দেশ, ০১.০১.১৯৬৬। প্রথম স্তবকে সাড়া জাগানো …

তাদের দেখা হলো সুদুর দেশে,
যুগের পরপারে, আকস্মিক।
শব্দহীন এক বজ্রপতনের
উঠলো দুই বুকে প্রতিধ্বনি।

অন্যত্র আবার…

বুঝিনি, ইন্দ্রিয় ঠকাতে পারে এত,
স্মৃতির যুপে দেয় নিজেকে বলিদান!
বুঝিনি, ব্রহ্মার দ্বৈত মায়াজালে
আখেরে আত্মার সেবক হয় প্রাণ।

কিন্তু, এখন নতুন চোখে দেখতে গিয়ে বুঝছি, আমার অশিক্ষিত কবিতাধারণায় তার চেয়ে বেশি উজ্জ্বল লাগছে ৯ নম্বরের একেকদিন, তারাপদ রায়, দেশ, ০৬.০৩.১৯৬৫। গোটা কবিতাটাই তুলে ধরা দরকার, যদিও তারাপদর নিজস্ব ঢঙে সেটা সুপরিচিত ছিল একদা, আমার মত তারাপদ-প্রেমীর কাছে তো বটেই…

একেকদিন একেকজন রমণীকে ঈশ্বরের মত

মনে হয়। মনে হয়, ভাগ্য ভবিষ্যতের হাতে
চোখ বুজে সমর্পণ করে
যে কোন স্রোতের মুখে
ছন্নছাড়া নিরুদ্দেশে যে কোনো জীবনে ভাসা যায়৷
সমস্ত পথের শেষে বাড়ি আছে, বাড়ির ভিতরে
ঘর দোর জানলা আছে একেকজন রমণীর চোখে
ঘর বাড়ি দোর পথ একেকদিন স্পষ্ট দেখা যায়৷

একেকদিন ঈশ্বরী সকাশে দিন বড় ভালো কাটে;

যেন ঘর, যেন কোনো অন্ধকার মঠের ভিতরে
চরণামৃতের জন্য হাত পেতে আছি, সাদা ফুল
সিক্ত বেলপাতার গন্ধ, ভালবাসা ঈশ্বরীর পাশে।৷

কেন কবিতাটা ভালো লেগেছিল আটচল্লিশ বছর আগে? বাঁধুনি মন্দ নয় কিন্তু অর্থোগ্রাফিটা কাঁচা, অবশ্যই কবিতা হিসেবে তারাপদর অনেক কবিতার চেয়ে, বিশেষত পরের দিকের কবিতার চেয়ে নিকৃষ্ট। এখন মনে হয়, ভালো লেগেছিল সততা, যে সততা কম বয়সের সত্তার কনফিউশন লোকসমক্ষে মেলে ধরে৷ তাছাড়া হয়ত আমার কিশোর বয়সের অনুভবে অনুরণন তুলেছিল কবিতাটা। কিন্তু আমার একার নয়, নারী-পুরুষ অনেকেরই একদা ভালো লেগেছিল কবিতাটা; তা নিয়ে আমরা বিভিন্ন আড্ডায় আলোচনা করেছি চুলচেরা — সে আলোচনার খুঁটিনাটি এখন মনের স্লেট থেকে বেমালুম উধাও। তবে নতুন করে পড়তে গিয়ে, নতুন করে, অন্যরকম করে ভালো লাগলো। এখন তো আর বয়ঃসন্ধির গ্রন্থিনিঃসরণের দোহাই চলবেনা, তবে কেন? আসলে হয়ত সব সমীকরণের বাইরে কোনও কোনও কবির নিজস্ব ফেরোমন থাকে, লিঙ্গভেদহীন ফেরোমন, কাউকে কাউকে আচ্ছন্ন করে — তাই৷

My other blog sites are at <aniruddhasen.wordpress.com> and <jonakiblog.wordpress.com>

Advertisements

One thought on “কবিতার স্ক্র্যাপবুক ৪

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s