কবিতার স্ক্র্যাপবুক ২

আজ দেখছি, আমার সেই ছিন্নপত্র কবিতার স্ক্র্যাপবুকের ধ্বংসাবশেষে অমিয় চক্রবর্তীর সোয়াইটজরের মহাপ্রয়াণে এক নন্বর কবিতা নয়; আগের পোস্টে যা বলেছি তা ভুল, যদিও অনিচ্ছাকৃত। ছোট করে সংগ্রহ সংখ্যা লেখা আছে কবিতার কোনায়, আমারই হস্তাক্ষরে। অমিয় চক্রবর্তীর কবিতার সংখ্যা ৫, যদিও এখন তার অবস্থান খাতার শুরুতে। দেশ, ২৯ কার্তিক, ১৩৭০ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬৩) তারিখে ছাপা তারাপদ রায়ের খিদিরপুরে তিনজন সারেং দেখছি আসল ১ নম্বর, তারই পিঠে ২ নন্বরে সুনীলকুমার নন্দীর লাল টকটক ছিন্ন কলি। পাতাটা ভাঁজ হয়ে লুকিয়ে ছিল খাতার গোসাঘরে, একাকিনী শোকাকুলার মত। তার মানে, কুপিতা ৩ আর ৪ নম্বর অভিমানে গৃহত্যাগ করেছেন। আবছা মনে পড়ছে, একটা সূচীপত্রও বানিয়েছিলাম; যেহেতু তার অবস্থান ছিল খাতার সদরে, তিনিও হদিশবিহীন। 

আজকের পোস্টে তবে খিদিরপুরই থাক!

স্রোতোমধ্যে বংশীধ্বনি কে শুনেছে,আর কে শোনেনি,
এই নিয়ে কোলাহল তিনজন বৃদ্ধ নাবিকের।
চতুর্দিকে ঊর্মিমালা নীলজল কোথাও সাগর,
অস্পষ্ট উদ্বেল ফেনা খিদিরপুরে সন্ধ্যার জোয়ার।
… উত্তর সমুদ্রতীরে একবার স্বর্ণ উপকূলে,
সুবর্ণকুন্তলা এক মৎস্যনারী, সুনীলনয়না,
গহনগভীর নাভি, তীক্ষ্ণ স্তনচূড়া; কেউ তাকে
দেখেছিল, স্রোতোমধ্যে বংশীধ্বনি কেউ কি শুনেছে?…

কেউ দেখেছিল তাকে, কেউ শুনেছিল। তিনজন
প্রাচীন সারেং—মধ্যসমুদ্রের ছায়াঘন বন্দরের থেকে
জলপাইচারা এনে বুনেছিল একজন নিজের বাড়িতে;
অন্যজন পার্ল হারবারে সেই বোমার রাত্রিতে
মসজিদে নামাজ পড়তে পড়তে চমকে ভয় পেয়েছিল;
আরেকজন কোথাও ছিল না কোনোদিন, ডকে ডকে
পঞ্চাশ বছর ধরে এটা সেটা কেনাবেচা করে
সারেঙের চোখ দিয়ে তারও সব দেখা হয়ে গেছে—
সমস্ত বন্দর, ঝড়, মাস্তুল, জাহাজ, নীলজল।

‘তুমিও কি ছিলে নাকি? তুমিও কি বাঁশি শুনেছিলে?
সে বছর ক্যাপ্টেন ডকের জাহাজে তুমিও কি ছিলে নাকি?’
‘উনিশ শো এগারো, দ্যাখো, সব ঠিক মনে আছে আজও,
হ্যালির ধুমকেতু নিয়ে সাহেবেরা কি ভীষণ মাতামাতি!’…
‘আমার প্রথম মেয়ে মরিয়ম সেবার জন্মালো’;
(মরিয়ম, দূর চট্টলের কোন পার্বত্য প্রদেশে
সন্তানসন্ততি সহ সে তো আজ নতজানু বৃদ্ধা পিতামহী!)

এখন সমুদ্রচ্যুত তিনজন অথর্ব সারেং,
ভাঙা ভাঙা কথাবার্তা; তিন গেলাস চায়ের ধোঁয়ায়
গুড়ের, আদার গন্ধ। খিদিরপুর ডকে আলো জ্বলে,
দূর বন্দরের থেকে নিয়ে আসা জলপাই গাছের
বিশাল বিশাল ছায়া চারিদিকে ছড়ায় এখন৷

Advertisements

One thought on “কবিতার স্ক্র্যাপবুক ২

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s